রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

Digital Duniya (world)


ডিজিটাল দুনিয়া 

প্রায় বাইশ বছর আগে আমার প্রথম email account তৈরী হয় অফিসে। Keyboard এ কাজ করাটা বিভীষিকা ছিল। অক্ষরগুলোকে খুঁজতে খুঁজতে বাক্যের খেই হারিয়ে ফেলতাম। তারপর কোনটা capital অক্ষর, কোনটা ছোট অক্ষর সেটার হিসেব রাখতে হতো। সবাই বললো typing school এ যেতে। গিয়েওছিলাম। যা পয়সা চাইল আর যে সময়ে শেখাবে বললো, আমার অফিস করে সেটা আর করা হয়ে  ওঠেনি।  

ধীরে ধীরে keyboard এর আন্দাজ এলো। চারটে আঙ্গুল দিয়ে এখন ভালই চলে। সেই typing school উঠে গেছে - ওরা এখন অন্য কাজ করে। দিনে দিনে email account এর সংখ্যা বাড়লো, বাড়লো password এর সংখ্যা।  যুক্ত হলো আরো কত password - server এর, database এর, network এর, firewall এর ; শেষে একটা XL sheet বানিয়ে সব লিখে রাখতাম। 

এলো মোবাইল ফোন। প্রথম যুগের ফোনগুলো তো অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেত - কাউকে ছুঁড়ে মারলে অবধারিত জখম। সেটারও উন্নতি হতে হতে এলো স্মার্ট ফোন। যন্ত্রটা কিছু কিছু ব্যাপারে আমার থেকেও স্মার্ট !! বেশ বিভ্রান্তিকর। তারও password লাগে। 

 এলো ক্রেডিট কার্ডের password.

এলো ডেবিট  কার্ডের password.

এলো internet banking এর password; email এবং social network account গুলোর password. 

চাকরির সাইটগুলোতে account বানিয়ে password লাগাতে হয়েছে। 

তারপর Tax account এর password আছে। কিছু শুধু নম্বর, কিছু শুধু অক্ষর, কিছু মেশানো। তার ওপর মাঝে মাঝে দরকার হয় one-time password বা OTP, যেটা তার পাঁচ মিনিটের জীবনে আমাদের জীবন সহজ বা কঠিন করে দিতে পারে। সেদিন হিসেব করলাম আমার প্রায় চব্বিশটা password আছে। আজ ঈশ্বরের কৃপায় মগজ সুস্থ, পারছি চালাতে; কোনদিন যদি মগজ বিগড়ায় তো কি হবে ?

জানিনা। 

আমার  থেকে  যাঁরা বয়স্ক, যাঁরা কম্পিউটার খুব বেশি ঘাঁটেননি, তাঁরা কি করবেন ?

জানিনা। 

আজকের ডিজিটাল দুনিয়াতে বেশিরভাগ লোকের গুষ্টির পিন্ডী সর্বজনের মধ্য়ে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। না চাইতেও অনেক লোকের অনেক তথ্য internet এ পাওয়া যায়। এক  জায়গায় delete করলে অন্য  জায়গায় তার copy থাকে। 

এই  তথ্য অমর। Link এর জাল মাকড়শাকেও লজ্জা দেবে। 

আগে দিনে যে এক বা দুই  ঘন্টা বই পড়ে কাটাতাম, এখন সেই সময়ে Whatsapp এর message delete করতে কাটে; delete না  করলে ফোন ঠিক  ঠাক কাজ  করে  না !! আবার delete করেও শান্তি  নেই  - দেখি Google সোনা (দাদা তো বলতে পারিনা, আমার থেকে অনেক ছোট ), তার  backup তুলে রেখেছে !! অর্থাৎ, চাইলেই বর্ষাকালের বৃষ্টির মতো সব কিছু  আবার আমার  ফোনে এসে যেতে পারে !! এলেই  হলো, ফোন চিৎপাত।...

প্রতি পনেরো - ষোলো মাস অন্তর ফোন পাল্টাতে হয়, না হলে ফোন এমনিই কাজ করেনা। পুরোনো ফোনগুলো ফেলতে মায়া হয়, জমছে ফোনের ভীড়......

কোথায় যাচ্ছি আমরা  ?

***
সরকার বলছে সব কিছুই  digital করে দেবে।  যে কোনদিন স্কুলে যায়নি, নিজের নাম সই করতে পারেনা, সে করবে  digital বা electronic transaction ?

দক্ষিণ ২৪ পরগনার লোকেরা "র" উচ্চারণ করতে  পারেনা, বলে "অ"। সেই  নিয়ে প্রচলিত গল্প  আছে; যাত্রা  দলে রানী বলছে , "আজা, আজা, এত অক্ত কেন ?" রাজা উত্তর দিচ্ছে,"অক্ত নয়, অক্ত নয় আনী, এটা অঙ।" কোলকাতা শহরে যারা  বাড়ি-বাড়ি রান্না করতে  আসে, তারা  অনেক সময়েই সকালের রান্নার সাথে "আতের উটি" বানিয়ে দিয়ে যায়। 

এরাই তো দেশের মানুষ। এদের  দিয়েই তো দেশের ভাল-মন্দ বিচার হবে। এরা করবে digital transaction ? কটা password মনে রাখবে, বা রাখতে পারবে ?

হয়তো একদিন ঠিক  ভাবে শিক্ষা পেলে পারবে digital transaction করতে। 

কবে পারবে ? চিন্তার বিষয় !!! 

ততদিন নরম বালিতে সাইকেল চালাবার মতন চলবে এই digital transaction করার প্রক্রিয়া। 

***

বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

Need money (টাকা চাই)

দিন যায় রাত আসে অবিরাম গতিতে,
টাকা - পয়সা দেখা দিয়েই চলে যায় স্মৃতিতে। 

কেনা - কাটা, ধার - শোধ, কত থাকে জবানী,
যেই আসে কুড়ি তারিখ, ভাঁড়ে মা ভবানী। 

উপায় ঠিক বার করেছি, করি চিন্তার বিন্যাস,
সংসার ছেড়ে দিয়ে, নিয়ে নাও সন্যাস। 

জগতের পাপিরা হবে তোমার শিষ্য -
সোনা - দানা দান করে হয়ে যাবে নিঃস্ব। 

গেরুয়া বসন পরে প্লেনে - টেনে ঘুরবে ,
প্লেন থেকে নেমে ফের বড় গাড়ি চড়বে। 

খরচা - পাতি ওরা দেবে, আর কি চিন্তা ?
সাধু সেজে নাচো খালি ধেই - ধেই - ধিনতা। 

যদি পারো বেচতে যোগ ব্যায়াম, নিঃশ্বাস,
বড়লোক হবে ঠিক এই মোর বিশ্বাস। 

রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

Thoughts (চিন্তা)


সেদিন সন্ধ্যাবেলা ব্যালকনিতে বসে হঠাৎ আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি প্রচুর তারা। কোলকাতা শহরে থেকে আকাশে তারা দেখা প্রায় অসম্ভব। সেদিন বোধ হয় কোনো  কারণে আবহাওয়া খুব পরিষ্কার ছিল তাই এতো তারা দেখা  যাচ্ছিলো।

দেখতে দেখতে মনে পড়ে গেল ছোটবেলাকার কথা, চিত্তরঞ্জনে রেলওয়ে কোয়াটারের  বাগানে গরমকালে তক্তপোষে শুয়ে বাবার  সাথে  আকাশ দেখতাম - তার কথা। তখন আকাশ অনেক পরিষ্কার থাকত আর ঝিলমিল করতো তারায়।

"ওই দেখ কালপুরুষ", "ওটাকে বলে সপ্তর্ষী মন্ডল",  বাবা শেখাতেন। তার  সাথে  শুনেছিলাম সেই  সপ্তর্ষীদের গল্প। শুয়ে শুয়ে ভাবতাম একদিন যাব ওই তারা মন্ডলে।  মাঝে মাঝে এক ফালি ঝলমলে তারা  দেখা যেত যেটা জেনেছিলাম "Milky way " হিসেবে। অবাক  হয়ে চেয়ে  থাকতাম। তারার  সাথে দুধের  সম্পর্কটা আজও বুঝিনি।

দু - একবার হয়ত উপগ্রহও দেখেছিলাম গতিমান তারা হিসেবে।

আজ জানি সেই তারাগুলো  কত দূরে। মানব ইতিহাসে কত গল্পই না  রচনা হয়েছে এই তারা আর আকাশ নিয়ে।  কত  কবিতা। কত  নাম - নক্ষত্র, নীহারিকা, আরও কত  কি।

এই দূরত্ব ভাবতে গেলে "অসীম, অনন্ত" ছাড়া আর কিছু  ভাবা যায়না। তাই তো আমরা "ব্রহ্মাণ্ড" বলি।
***

হঠাৎ মোবাইল বেজে  উঠলো।  গিয়ে দেখি charging শেষ।  গোটা  কতক মেসেজ এসে ঢুকেছে।
আবার ফিরে গেলাম রোজকার গতানুগতিক জীবনে। তারার  কথা ভাবা  যাবে অন্য  কোন  দিন - ফোনের আবার চার্জ ফুরিয়ে গেলে।



বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

Aabhaoar Purbabhash (Weather Forecast)

 আবহাওয়ার পূর্বাভাস

উপগ্রহের  ছবি দেখি মেঘে  ঢাকা সব,
বাইরে দেখি রোদের আলো, পাখির কলরব।

"ঝড় আসছে" আগাম খবর দিলো ওরা যখন
গাছগুলো সব ছবি হয়ে তাকিয়ে রইল তখন।

ঝড়টা এলো - পাশের দেশে, উত্তাল পারাবারে
ঝড় বুঝি ওই পথ হারালো রাতের অন্ধকারে।

এতো ভুল হবে কেন ? নিয়ম নাই কি কোনো ?
উপগ্রহের চোখটা ট্যারা, বলছি তোমায় শোনো।

আবহাওয়া যেন মুচকি হাসে, শুনে ওদের কথা
যেটাই বলে, উল্টো করে, দেয় যে প্রাণে ব্যাথা।

জীবন ভরে আকাশ দেখে কিছুই নাহি শেখে,
বৃষ্টি হয়েছে বোঝে বোধ হয় ভিজে বেড়াল দেখে।

"আকাশ আংশিক মেঘলা" বলে - সে তো থাকে রোজই,
পূর্বাভাস কবে সঠিক হবে - সেই দিনটি খুঁজি।

***





বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

Byayam

ব্যায়াম 

"জিম করে ট্রেডমিল ঠেলে 
হাত - পা গেলো জমে ,
ভুঁড়ির ব্যাস রইলো সঠিক -
বুদ্ধি গেলো কমে।"