আমার বাবার ওষুধ নিয়ে পড়াশুনো করার অভ্যাস ছিল। বাড়িতে প্রচুর মেডিসিনের বই ছিল - তখন তো আর ইন্টারনেট ছিল না, তাই বইই ছিল একমাত্র সম্বল। শুধু পড়াশুনো নয়, সেই বিদ্যা প্রয়োগও করতেন। আমাদের ওপর।
আর সুযোগও ছিল - আমি তো প্রায়ই জ্বর - কাশিতে ভুগতাম, ঈশান কোণে মেঘ দেখা দিলে নাক দিয়ে জল গড়াতো, যখন তখন টন্সিল ফুলে যেত; দিদি একটু কম। ফলে বিভিন্ন রকম ওষুধ খেয়েছি, বেশীর ভাগ জঘন্য খেতে - যেমন পাড়ার ডাক্তারের লাল - সবুজ মিক্সচার, Waterbury's Compound, Phosphomin, কালমেঘ (উঃ - মাগো, কি তেতো ছিল ওটা), আরো কত কি... (পাড়ার ওষুধের দোকানদার বাবাকে "trained chemist" ভাবতো, বহুদিন পরে তার ভুল ভেঙেছে। )
এর মধ্যে মাঝে মাঝে হোমিওপ্যাথি ওষুধও চলতো - Hepar Sulphur, Ipecac, Colchicum, Belladona, Nux Vomica, Baryta Carb. ... এই কটাই মনে পড়ে, আরও হয়ত ছিল। কোন ওষুধের কি কাজ ছিল জানিনা, এটা মনে আছে যে সবই ছোট ছোট চিনির গোলা, আর প্রায় একই রকম গন্ধ। বাবা গুনে গুনে কখনো চারটে গোলা, কখনো ছ' টা গোলা দিতেন। তাতে জ্বর সারতো কি না মনে নেই।
ওষুধগুলো থাকতো একটি ছোট কাঠের বাক্সে, তার ভেতরটা ছিল কালো, আর বাইরেটা চকচকে কাঠের পালিশ।
কখনো বেশী খাওয়া হয়ে গেলে, বাবা দেখতাম নতুন ওষুধের শিশি নিয়ে আসতেন। ওষুধ চুরি বুঝতেন কি না জানিনা, কিনতু কোনো দিন প্রশ্ন করেননি।
আর সুযোগও ছিল - আমি তো প্রায়ই জ্বর - কাশিতে ভুগতাম, ঈশান কোণে মেঘ দেখা দিলে নাক দিয়ে জল গড়াতো, যখন তখন টন্সিল ফুলে যেত; দিদি একটু কম। ফলে বিভিন্ন রকম ওষুধ খেয়েছি, বেশীর ভাগ জঘন্য খেতে - যেমন পাড়ার ডাক্তারের লাল - সবুজ মিক্সচার, Waterbury's Compound, Phosphomin, কালমেঘ (উঃ - মাগো, কি তেতো ছিল ওটা), আরো কত কি... (পাড়ার ওষুধের দোকানদার বাবাকে "trained chemist" ভাবতো, বহুদিন পরে তার ভুল ভেঙেছে। )
এর মধ্যে মাঝে মাঝে হোমিওপ্যাথি ওষুধও চলতো - Hepar Sulphur, Ipecac, Colchicum, Belladona, Nux Vomica, Baryta Carb. ... এই কটাই মনে পড়ে, আরও হয়ত ছিল। কোন ওষুধের কি কাজ ছিল জানিনা, এটা মনে আছে যে সবই ছোট ছোট চিনির গোলা, আর প্রায় একই রকম গন্ধ। বাবা গুনে গুনে কখনো চারটে গোলা, কখনো ছ' টা গোলা দিতেন। তাতে জ্বর সারতো কি না মনে নেই।
ওষুধগুলো থাকতো একটি ছোট কাঠের বাক্সে, তার ভেতরটা ছিল কালো, আর বাইরেটা চকচকে কাঠের পালিশ।
ছোটবেলার স্মৃতিতে পরিষ্কার ছবি এখনো ধরা আছে - দরজার পেছনে বা খাটের তলায় লুকিয়ে আমি আর দিদি, বা আমার কোনো বনধু, বাবার সেই হোমিওপ্যাথি ওষুধের বাক্সটা নিয়ে একটার পর একটা বোতল খুলে দু-চারটে করে চিনির গোলা ঢেলে ঢেলে খেতাম। উঃ সে কি আনন্দ !! সেযুগের বিটকেল স্বাধের ওষুধগুলোর কাছে এটা ছিল যেন নকুলদানার ছোটভাই !
কখনো বেশী খাওয়া হয়ে গেলে, বাবা দেখতাম নতুন ওষুধের শিশি নিয়ে আসতেন। ওষুধ চুরি বুঝতেন কি না জানিনা, কিনতু কোনো দিন প্রশ্ন করেননি।
ওই হোমিওপ্যাথি ওষুধের যে ছোট ছোট কাচের শিশি হত, সেগুলো আরও একটা কাজে লাগত - ঠোঁটের কাছে ধরে খুব সুন্দর শিষ দেওয়া যেত - আপনারা কেউ চেষ্টা করেছেন কখনও ?
এই রোগ-ভোগান্তি আর ওষুধের মধ্য দিয়ে কখন বড় হয়ে গেছি টের পাইনি। বাবা চলে গেছেন প্রায় দশ বছর আগে। সেদিন বাবার ঘরটা পরিষ্কার করতে গিয়ে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে বেরোলো আমার সেই ছোটবেলাকার প্রবল কৌতুহলের আর আনন্দের উৎস - সেই হোমিওপ্যাথি ওষুধের বাক্স !!
তাতে আজও কিছু ওষুধের শিশি আছে। রেখে দিয়েছি যত্ন করে।
শুনেছি আজকাল নাকি ওই শিশি আর পাওয়া যায়না - সবই প্লাস্টিকের। ওই রকম বাক্সও বোধ হয় পাওয়া যায়না। যুগ বদলে গেছে।
শুনেছি আজকাল নাকি ওই শিশি আর পাওয়া যায়না - সবই প্লাস্টিকের। ওই রকম বাক্সও বোধ হয় পাওয়া যায়না। যুগ বদলে গেছে।
