শনিবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২০

নীরব দীপাবলী (Silent Deepavali)

 মাঝে মাঝে পাখির ডাক  

দূরে বাজছে পূজোর ঢাক -

            চারিদিক তো শান্ত, নিরিবিলি। 

নেই আকাশে রঙের ছটা 

রকেট - ফানুস - তুবড়ি - ঘটা -

            মনে আজ দুঃখ জাগায় নীরব দীপাবলী ।

একটি দিনের বায়ু দূষণ তো 

বন্ধ করলে আজি -

বাকি দিনের সেই প্রবল দূষণ -

          রুখতে পারবে, কাজী ??

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

গ্রাহক পরিষেবা - Do we understand "Customer Service" ?

আমরা কি কাস্টমার সার্ভিস (গ্রাহক পরিষেবা ) বুঝি ?


আপনার ব্যাংকটা বাড়ির কোন তলায় ? গ্রাউন্ড ফ্লোর বা একতলায় কি ? তাহলে বেঁচে গেলেন। বেশীর ব্যাঙ্ক দেখি তাদের শাখাগুলোকে ফার্স্ট ফ্লোর, যাকে বলে দোতলায় রাখে, এবং কিছু ডিপার্টমেন্ট তিনতলায় !!

সেই সব ব্যাংকে অবসরপ্রাপ্ত, অথবা ষাটের ওপর বয়স্ক লোকজনদের আনাগোনা লক্ষ্য করেছেন কি ? তাদের দেখে নিজের ভবিষ্যতের চিন্তায় আমি শিউরে উঠি।  দোতলায় ওঠা, আর আর চকচকে পাথর বসানো মেঝে আর সিঁড়ি দিয়ে যাতায়াত করা কি সাংঘাতিক ! 

আমরাই খুব সন্তর্পনে পা ফেলি, যাঁরা লাঠি বা ওয়াকার নিয়ে আসেন, তাদের কি অবস্থা বলুন তো ?

 শুধু ব্যাংক কেন ? কর্পোরেশন এর অফিস ট্যাক্স জমা করতে হয় ? তিনতলা আর চারতলা উঠতে হয় ? আর অফিস এর বাইরে ঘন্টাখানেক দাঁড়াতে হয় ? সরকারি বাবুরা দয়া করে ট্যাক্স জমা নেবেন বলে ? 

কোনো সরকারি অফিসে একবার গিয়ে কাজ হাশিল করতে পেরেছেন ? কোনো না কোনো কারণে তিন থেকে চারবার ঘুরিয়ে ছাড়ে ! "আজ তো হবেনা, অন্য দিন আসতে হবে" - এই কথা নিশ্চয় আপনাদের বহুবার শোনা। বাবু চেয়ার এ থাকেন না, থাকে তার চশমা আর কোট। 

বলি, মাইনেটা বাবু পায় না ওর কোট পায় ?

এইরকম উদাহরণ দিতে গেলে এই লেখা আর শেষ হবেনা !!

***

বেশ কিছু বছর আগেকার কথা বলছি - কিছু ছেলে-মেয়ে গিয়েছিল অন্য একটা দেশে প্রজেক্ট করতে। নতুন দেশে শুরুতে একটু আধটু অসুবিধে তো হবেই ! তাতে লোকজন ক্ষেপে গিয়ে তাদের সেলস কে গালি-গালাজ করতে লাগল - "কাঁহা কাঁহা সে কাস্টমার লাতা হায় !! কাস্টমার ভি উল্লু হায়, জো হামকো অর্ডার দেতা হায় !!"

বেশির ভাগ লোকের ধারণা বিদেশ মানে ইংল্যান্ড - আমেরিকা, আর এর বাইরে যে আরো একশো কুড়ি খানা দেশ আছে এবং সেখানে লোকজন থাকে আর কিছু কিছু ব্যাপারে এদেশের থেকে অনেক উন্নত সেটা বিশ্বাসই করেনা। কাজেই ওই সব দেশে কাজ করতে গেলে মুখ হাঁড়ি !!

"কাস্টমার ভি উল্লু হায়, জো হামকো অর্ডার দেতা হায় !!" - এই চিন্তাটা এবং উক্তিটি আমি বার বার উপলব্ধি করেছি  বা শুনেছি  আমার কর্মজীবনে।  কোন শিক্ষা থেকে এটা আসে আমার জানা নেই !

***

স্কুলে সন্তান ভর্তি করতে গিয়ে মনে হয় কি ভুলই না করেছি সন্তান কে জন্ম দিয়ে ! প্যারেন্ট -টিচার মিটিংএ গিয়ে বুঝি যে আমার ছেলেটির মতো দুষ্ট আর নচ্ছাড় বাচ্চা ইতিহাসে নেই। বাচ্চা গুলো সারাদিন ভোম্বলের মতো কথা না বলে, লাফালাফি না করে, অবাক হয়ে টিচার এর দিকে তাকিয়ে বসে থাকলে তবেই টিচার খুশি ! ওদের নিজের বাচ্চা কি করে জানতে ইচ্ছে করে। 

শিশুকে ভালো না বেসে শিশুকে পোড়ানো নৈতিক ভাবে অনুচিত। মূল্যবোধের ব্যাপার - এবং আজ সে মূল্যবোধ কোথায় ? 

এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মূল্যবোধের অভাবে উন্নতি করতে পারেনি এটাই আমার ধারণা - তাই এদেশের ছাত্র - ছাত্রীরা বিদেশে গিয়ে এতো ভালো কাজ করে, এদেশে নয়। 

***

ইংল্যান্ড - আমেরিকা সহ বহুদেশে দেখেছি যে পাবলিক অফিস আইনত ভাবে গ্রাউন্ড ফ্লোর এ থাকে, গ্রাহকদের আরামের জন্য বাতানুকূল পরিবেশ, বসার জায়গা থাকে, অপেক্ষার লাইন লম্বা হয়ে গেলে নতুন কাউন্টার খুলে দেয়, বাইরে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা থাকে। 

এ দেশে কবে হবে এই সব ? কবে আমরা বুঝবো গ্রাহক পরিষেবা সাধারণ লোকের সেবা করার জন্য, তাদের শাস্তি দেওয়ার জন্য নয় ?

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মূল্যবোধ কে নতুন করে মূল্যায়ন করুক - যাতে ভবিষ্যতের প্রজন্ম সঠিক শিক্ষা পায়। শিক্ষা আর ব্যবসার মধ্যে যে পার্থক্য আছে সেটা ভুলে গেলে চলবেনা। 

পাঠকের মতামত শোনার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।